মঙ্গলবার । ১৯শে মে, ২০২৬ । ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সাংবাদিক পরিচয়ে অনেক আ. লীগ নেতা নির্যাতনে জড়িত: তথ্যমন্ত্রী

গেজেট প্রতিবেদন

মামলার মুখে পড়া সাংবাদিক পরিচয়ে অনেকেই আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে মানুষের ওপর নির্যাতনে জড়িত ছিলেন তারাই মূলত রক্ষা পেতে ভুঁইফোঁড় গণমাধ্যমের পরিচয়ও ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের নামে হওয়া বিভিন্ন মামলা প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সরকারের তিন মাস পূর্তিতে বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জন বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই বিষয়ে গঠিত হতে যাওয়া মিডিয়া কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত মন্তব্য করা যাবে।

সাংবাদিকদের নামে হয়রানিমূলক মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারে নাহিদ ইসলাম তথ্য উপদেষ্টা থাকার সময় মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

কমিটি কয়েক দফায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে তথ্য আহ্বান করে। মোট ৯২ জন সাংবাদিক তাদের হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সব মামলার বাদী সরকার নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেও মামলা হয়েছে। আবার যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের অনেকের পেশা সাংবাদিকতা নয়।

তিনি বলেন, তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের পদে থেকে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন, অনেকের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা মামলা করেছে। কিন্তু ভুঁইফোঁড় মিডিয়ার সাংবাদিক পরিচয় ধারণ করে সাংবাদিক হিসেবে কেউ কেউ সুবিধা নিতে চাচ্ছে। বিগত সরকারের অভিজ্ঞতাও আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের নামে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে সম্পাদক পরিষদের তালিকা প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদ দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও হয়রানিমূলক মামলার তালিকা চেয়েছিলেন।

সংবাদপত্রের বিধিবিধান, পাঠক চাহিদা ও রাষ্ট্রের অনেক নিয়ম-কানুন মেনে এই পেশাটা চলে। গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটা অরাজকতা বিরাজ করছে। এখানে একটা গ্রহণযোগ্য নিয়ম-কানুন থাকা দরকার।

আমরা একটা মিডিয়া কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। জুনের মধ্যে একটা পরামর্শ কমিটি গঠন করে একটা খসড়া প্রস্তাব হাজির করব। প্রেস কাউন্সিলকে কীভাবে আরও সক্রিয় করা যায় সেটাও দেখবে। জুলাই মাসের দিকে একটা প্রস্তাবনা তৈরি করতে পারব।’

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন